অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিনে নতুন বই এসেছে ৬৪টি

হাসিব ইশতিয়াকুর রহমান: অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৪টি এবং বাংলা একাডেমির নিজস্ব স্টলে মোট বিক্রির পরিমাণ ৯৭,১৫,৭৭১.০০ টাকা।

গতকাল বিকালে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শাহ্ আবদুল করিম জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী, শরদিন্দু ভট্টাচার্য, সাইমন জাকারিয়া। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, শাহ্ আবদুল করিমের জন্মশতবর্ষ অতিক্রান্তির এ শুভলগ্ন থেকেই তাঁর জীবনকথা ও কৃতি নিয়ে, নির্দয় নিয়তি আর ঘোরতর বৈষম্যমূলক সমাজসৃষ্ট দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত তাঁর জীবনসংগ্রাম নিয়ে, তাঁর সংগীতমালার বিধৃত বাঙালির লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান বিশেষত বহু জাতি-বর্ণ-ধর্ম সমন্বিত ইহবাদী জীবনচেতনা এবং মরমি দর্শন নিয়ে আরো ব্যাপক ও গভীর বিশ্লেষণাত্মক কাজ হওয়া দরকার। তবেই এক মানবপন্থী সংস্কৃতিসাধক হিসেবে বাউল শাহ আবদুল করিমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে মনে করি।

আলোচকবৃন্দ বলেন, এই শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ লোককবি শাহ আবদুল করিম। প্রচলিত লোকবাংলার সুর নিয়েই তিনি এক ধরনের ‘করিমী’ সুর সৃষ্টি করেছেন। তাঁর বাউল গানে আছে মুর্শিদের কথা। তিনি আমাদের জন্য রচনা করেছেন সুফিধারার প্রেমের গান। ‘মানবগাছ’, ‘মানবতরী’ ইত্যাদি শব্দবন্ধের মধ্য দিয়ে করিম তাঁর গানে এক অন্যরকম ব্যঞ্জনা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছেন। করিম তাঁর নিজের শক্তিতেই আমাদের থেকে এগিয়ে আছেন। তিনি খুব সহজেই অপসৃত হবেন, এটি আমরা মনে করি না।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, শাহ্ আবদুল করিম কখনো চারণ কবি, কখনো লোক কবি, কখনোবা বাউল কবি। এই মরমি সাধক আমাদের বাউল গানকে যে মাত্রা দিয়েছেন, তা তাঁকে আমাদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখবে। বাংলা একাডেমি তাঁর জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে তাঁর গান ও জীবন নিয়ে একটি আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে, যে আয়োজনে উঠে আসবে বাউল আবদুল করিমের জীবন ও সাধনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে সাকার মুস্তাফার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভাবনগর ফাউন্ডেশন’ এবং সালাউদ্দীন বাদলের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী’-র শিল্পীবৃন্দ। সংগীত পরিবেশন করেন স্বপ্না রায়, আবু বকর সিদ্দিক, সালমা চৌধুরী, শতাব্দী রায়, মেহেরুন আশরাফ, লাকী সরকার এবং খোকন বাউল। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁশি), রতন কুমার রায় (দোতারা), বাউল মিলন (মন্দিরা) এবং দশরথ দাস (বাংলা ঢোল)।

আজ ১১ ফাল্গুন ১৪২২/২৩ ফেব্র“য়ারি ২০১৬ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে মোহাম্মদ নাসির আলী জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন কবি আসাদ চৌধুরী, শিশুসাহিত্যিক লুৎফর রহমান রিটন এবং শিশুসাহিত্যিক কাইজার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন লেখক-গবেষক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।