অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩ তম দিন শেষ

হাসিব ইশতিয়াকুর রহমান:অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিনে বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ নাসির আলী জন্মশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি আসাদ চৌধুরী, শিশুসাহিত্যিক লুৎফর রহমান রিটন এবং শিশুসাহিত্যিক কাইজার চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন লেখক-গবেষক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, শিশুসাহিত্যিক হিসেবেই মোহাম্মদ নাসির আলী সমধিক খ্যাত এবং প্রতিষ্ঠিত। একান্ত নিষ্ঠা, শ্রম, মেধা এবং সাধনা দিয়ে এ দেশের শিশুসাহিত্যের অঙ্গনকে তিনি উর্বর করেছেন। তাঁর সামগ্রিক রচনাবলি প্রমাণ করবে যে তিনি একজন স্বাপ্নিক মানুষের মত শিশুসাহিত্য রচনায় ব্রতী হয়েছিলেন। তাঁর একান্ত ইচ্ছে ছিল শিশুরা এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর রূপকে আবিষ্কার করবে। যে কারণে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উপাখ্যান, লোককথা, রূপকথা, উপকথা ও অভিযানকাহিনিকে নিজস্ব রচনাশৈলীতে প্রাঞ্জলভাবে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, নাসির আলীর রচনাবলি ছিল বৈচিত্র্যময়। নিজস্ব মেধা প্রয়োগ করে তিনি এ দেশের শিশুসাহিত্যের অনুর্বর ক্ষেত্রকে ক্রমাগত উর্বর করে তুলতে পেরেছিলেন। কাহিনি নির্বাচনে এবং রচনাশৈলীতেও রেখেছেন মৌলিকতার স্বাক্ষর।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা শিশুসাহিত্যে মোহাম্মদ নাসির আলীর অবদান অবিস্মরণীয়। আজ আমাদের শিশুসাহিত্য যে বিপুলতা ও বৈভবের অধিকারী তার নেপথ্যে নাসির আলীর ভূমিকা অসামান্য। এদেশের শিশুসাহিত্যের ভিত মজবুত করতে তিনি বিচিত্র শাখায় কাজ করেছেন। তারা বলেন, জন্মশতবর্ষে মোহাম্মদ নাসির আলীকে স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমি একটি গুরুদায়িত্ব পালন করলো।

সভাপতির বক্তব্যে ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, মোহাম্মদ নাসির আলী ও তাঁর প্রজন্মের লেখকবৃন্দ নিজেদের মেধা ও শ্রমে বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যকে যেভাবে স্বাবলম্বী ও বর্ণিল করেছেন সে জন্য তাঁদের ঋণ আমরা সব সময় মনে রাখবো। একই সঙ্গে জন্মশতবর্ষে মোহাম্মদ নাসির আলীর রচনার নিবিড় পাঠ ও বিশ্লেষণও প্রয়োজন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন, সায়েরা হাবীব, ইমরুল ইউসুফ, আবিদ করিম, খোদেজা বেগম, আব্দুস সালাম। সংগীত পরিবেশন করেন মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ, অদিতি ফাল্গুনী, মোস্তাক আহমেদ, মো. নাসিরুল ইসলাম, ডা. রেজাউর রহমান, মো. আরিফুর রহমান, মো. আবুল কালাম, আসাদ আহমেদ, মাহবুবা রহমান, আবু শামস্ নূর মোহাম্মদ, মো. মনিরুজ্জামান, ফারহানা শিরিন, আইয়ুব মুহাম্মদ খান, মো. আনোয়ার হোসেন, সঞ্জয় কুমার দাস, মীর তারিকুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম এবং মো. দেলোয়ার হোসেন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পিনু সেন দাস (তবলা), হোসেন আলী (বাঁশি), আবদুর রব হাওলাদার (দোতারা), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড)।

আজ বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ও মান উন্নয়নে সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লেখক গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন কাজী ফারুক আহমেদ, মনজুর আহমদ এবং শাহিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.
ফারজানা ইসলাম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।