বাণিজ্যিক হচ্ছে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক

গৌরব সিংহ হাজারীঃ প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও দাবি ছিল প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে বাণিজ্যিক অনুমোদন দেয়া। তবে সেটি করতে বাধা ছিল আইনের পরিবর্তন ও মূলধন সংকট। এ দুটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েই সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ব্যাংকটি। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন এনডিসি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

এছাড়া প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজী, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম রেজা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের বিষয়ে আজকে তারা একটি বৈঠক করেছেন। অনেক কিছু সিদ্ধান্তও হয়েছে। তবে কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। ওই ঘাটতি মেটাতেই ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছিল ব্যাংকটি। আজকের বৈঠকে মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার ২৫০ কোটি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা দেয়া হবে। এছাড়া ব্যাংকটির মালিকানার ধরন ও আইনগত সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করবে। বিশেষ করে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে যাতে মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব থাকে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

জানা গেছে, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক আইন করে সরকার। এটি একটি বিশেষায়িত ব্যাংক আইন। আইন অনুযায়ী প্রবাসে যাওয়া ও প্রবাস থেকে ফিরে আসা প্রবাসীদের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলার জন্য অর্থায়ন করাই ব্যাংকটির মূল কাজ। বাণিজ্যিক কোনো কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই এই ব্যাংকের। ওই আইনের অধীনে ২০১১ সালে ২০ এপ্রিল ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে প্রধানত প্রবাসে যাওয়ার জন্য ঋণ বিতরণ করে আসছে ব্যাংকটি। বর্তমানে সারাদেশে ব্যাংকটির ৪৯টি শাখা রয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত ব্যাংকটির মাধ্যমে ২২ হাজার বিদেশগামী ২০৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়া বিদেশ ফেরত কর্মীকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে স্বকর্মসংস্থান করে যাচ্ছে। ১৫২ জনকে প্রায় দুই কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছে।

এছাড়া প্রতিবছরই ব্যাংটির ঋণ প্রদান বাড়ছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হলে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা ১৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকে পরিণত হলে আমানত গ্রহণসহ সবধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে ব্যাংকটি।