মহাঔষধের আরেক নাম “ক্রস ফায়ার”

যে ঔষধে সকল রোগের সমাধান নিহিত তাকেই মহাঔষধ বলে। আমাদের দেশে ক্রসফায়ার এখন মহাঔষধ রুপে আর্বিভূত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- যখনই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কোন কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে তখনই ক্রসফায়ার নামক মহাঔষধ ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তরুন সমাজকে মাদকের কালো হাত থেকে রক্ষা করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এরইমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানের ১১তম দিনে নিহত মানুষের সংখ্যা ৫০ জন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশই যে প্রথম ক্রসফায়ার নামক এই মহাঔষধ ব্যবহার করছে এমনটি নয়। মাদক চোরাচালান বন্ধে থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশই এই মহাঔষধ ব্যবহার করেছে।

সাম্প্রতিক ফিলিপাইন সরকার  ক্রসফায়ার নামক মহাঔষুধ ব্যবহার করে ভাল ফল পেয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ফিলিপাইনের এক মেয়রসহ প্রায় ৬০০০ জন নিহত হয়। মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিচারক, পুলিশ অফিসার ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদায় করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে । দুতের্তের তালিকাভুক্ত মাদক চোরাকারবারে জড়িতদের মধ্যে একজন মেয়র রেনাল্দো পেরোজিনগ। দুতের্তের নির্দেশে রেনাল্দোর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র বলেছে, ‘তল্লাশি চালানোর জন্য ওয়ারেন্টসহ আমরা মেয়রের বাড়িতে যাই। এ সময় তল্লাশি চালাতে চাইলে মেয়রের বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষীরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আমরাও তখন তাদের জবাব দেই। এতে মেয়র নিহত হয়।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যেটা একটি ভাল উদ্যেগ বলে আমি মনে করি। তবে অবশ্যই পর্যাপ্ত সতর্কতা বজায় রাখতে হবে, যাতে নিরপরাধ মানুষ এর স্বীকার না হয় এবং এটা যেন পুলিশের টাকা উপার্জনের একটি পন্থা হয়ে না যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার, মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এসেছে। পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য যে কেউ মাদক চোরাকারবারে সাথে সম্পৃক্ত থাকলে কঠোর হাতে তা অবশ্যই দমন করতে হবে। দলীয় বিবেচনায় কাউকে ছাড় দিলে এই অভিযান ব্যর্থ হবে।  সরকারকে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তা না হলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এটা নিবাচনী বছরে সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক, আইন অনুষদ,

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি

zahidulislamiium@yahoo.com