বালি ভ্রমণের ৮ দিন পর করোনা আক্রান্ত, দ্বীপজুড়ে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপ ভ্রমণের আটদিন পর এক চীনা নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। ওই ব্যক্তি গত ২৮ জানুয়ারি চীনে ফেরেন। ৫ ফেব্রুয়ারি তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ান গণমাধ্যম জাকার্তা পোস্ট জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহানের ওই বাসিন্দা নিজ শহরে ফেরার পরেই ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বালির প্রদেশীয় স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কেতুত সুরযায়া বলেন, তিনি (চীনা নাগরিক) বালি ভ্রমণের আগেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন এমন সম্ভবনা খুবই কম বলে মনে হয়। তারপরও আমরা সব ঘটনা যাচাই করবো এবং অবশ্যই সতর্কতা বাড়াবো।

এদিকে, ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ থাকায় চীনের অন্য দুই নাগরিককে ডেনপাসার শহরের সাংলাহ হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখেছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন খাত। সংক্রমণের পর থেকে শুধু বালি দ্বীপেরই ২০ হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসা বাতিল করেছেন। সাধারণত চলতি সময় থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্তই গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপনের বুকিং দেন পর্যটকরা। ফলে পর্যটন খাতের এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে বুধবার চীনে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৪ জন, যা এখন পর্যন্ত একদিনে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু। এদের মধ্যে শুধু হুবেই প্রদেশেই মারা গেছেন ২৪২ জন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৭ জন।

বৃহস্পতিবার হুবেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১০ জন। চীনের মূল ভূখণ্ডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৩৫৫ জন। এছাড়া মধ্যে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে হংকং ও ফিলিপাইনে দু’জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বুধবার হুবেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও ১৪ হাজার ৮৪০টি ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। ফলে প্রদেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ২০৬ জন। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।