সত্য প্রকাশ: পুঁজিবাজার থেকে ২০১৫ সালে প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করেছে ১৪ প্রতিষ্ঠান। বাজার থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ৯৬২ কোটি ২২ লাখ ২২ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- শাশা ডেনিমস, জাহিন স্পিনিং, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, বিএসআরএম লিমিটেড, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, আমান ফিড মিলস, কেডিএস এক্সেসরিজ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্ট, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড এবং এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, এসব কোম্পানির মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পানিই শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে মূলত বিভিন্ন ঋণ পরিশোধের কাজে। ব্যবসায়িক মন্দা, পরিচালন ব্যয়বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসা সম্প্রসারণে যেতে না পারার কারণে কোম্পানিগুলোর আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আবার এসব কোম্পানি প্রিমিয়াম মূল্যে আইপিওতে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এতে কোম্পানিগুলো উভয় দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, পুঁজিবাজার থেকে শত শত কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেও উন্নতি করতে পারছে না কোম্পানিগুলো। ফলে মুনাফার আশায় কোম্পানির শেয়ার কিনে হতাশ হতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।
জানা যায়, ১১টি কোম্পানি ও ৩ টি মিউচুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ৯৬২ কোটি ২২ লাখ ২২ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে এসেছে ৮ কোম্পানি। আর এসব কোম্পানি প্রিমিয়ামের নামে ৫৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা তুলে নিয়েছে পুঁজিবাজার থেকে। এই আট কোম্পানির মধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন প্রিমিয়াম নিয়েছে ২০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা, আমান ফিড ৫২ কোটি টাকা, কেডিএস ১২ কোটি টাকা, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ কোটি টাকা, রিজেন্ট টেক্সটাইল ৭৫ কোটি টাকা, বিএসআরএম লিমিটেড ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং শাশা ডেনিমস প্রিমিয়াম নিয়েছে ১২৫ কোটি টাকা।
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন আইপিওর মাধ্যমে ৬২ টাকা প্রিমিয়ামে ৩ কোটি ৩০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে, বিএসআরএম লিমিটেড ১৫ টাকা প্রিমিয়ামে ১ কোটি ৭৫ লাখ শেয়ারের বিপরীতে নিয়েছে ৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ১৬ টাকা প্রিমিয়ামে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০০টি শেয়ারের বিপরীতে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা, আমান ফিড মিলস ২৬ টাকা প্রিমিয়ামে ২ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ৭২ কোটি টাকা, কেডিএস এক্সেসরিজ ১০ টাকা প্রিমিয়ামে ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের বিপরীতে ২৪ কোটি টাকা, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১০ টাকা প্রিমিয়ামে ৩ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ৬০ কোটি টাকা, রিজেন্ট টেক্সটাইল ১৫ টাকা প্রিমিয়ামে ৫ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ১২৫ কোটি টাকা, শাশা ডেনিমস ২৫ টাকা প্রিমিয়ামে ৫ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ১৭৫ কোটি টাকা, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড ২ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ২০ কোটি টাকা, ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্ট লিমিটেড ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের বিপরীতে ১২ কোটি টাকা, জাহিন টেক্সটাইল ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের বিপরীতে ১২ কোটি টাকা, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড ৬ কোটি ইউনিটের বিপরীতে ৬০ কোটি টাকা, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ৫ কোটি ইউনিটের বিপরীতে ৫০ কোটি টাকা এবং ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ৭ কোটি ইউনিটের বিপরীতে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ কোম্পানির প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির উদ্যোক্তারা। প্রায় উচ্চ প্রিমিয়ামের আইপিওর মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়ে পরিশোধ করা হচ্ছে ব্যাংকের ঋণ। এতে আইপিওর টাকায় কোম্পানির পরিচালকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হলেও পরবর্তী সময়ে এই ঋণের দায় এসে পড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাঁধে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ না দেখে বিশেষ শ্রেণি তথা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে।