আদালত প্রতিবেদক: দেশের বিচার বিভাগে লাগছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) অর্থায়নে জুডিসিয়াল স্ট্রেনথেনিং প্রজেক্টের (জাস্ট) আওতায় বিচার বিভাগে এই ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম চালু হচ্ছে শিগগিরই। ডিজিটালাইজেশন এই কার্যক্রম চালুর পর দেশে দীর্ঘদিন থেকে চলা ভোগান্তি আর দীর্ঘ সূত্রতার অবসান ঘটবে।
বিচারক, রাষ্ট্র, আসামি এবং বাদি-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের সামনেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার থাকবে। আদালতের কম্পিউটার কম্পোজকারী সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সকল পক্ষ তাদের সামনে থাকা কম্পিউটারের মনিটরে তা দেখতে পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আদালতে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে। ওইসব আদালতে হাতে আর কোন সাক্ষীর জবানবন্দি লেখা হবে না। বিচারক, রাষ্ট্র, আসামি এবং বাদি-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের সামনেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার থাকবে। আদালতের কম্পিউটার কম্পোজকারী সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সকল পক্ষ তাদের সামনে থাকা কম্পিউটারের মনিটরে তা দেখতে পাবেন। নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হচ্ছে কি না তাও তারা পরীক্ষা করতে পারবেন।
এছাড়া সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের আইন আদালত এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা স্বপ্ন মনে হলেও ইতোমধ্যে গত ২ মার্চ এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ, জেলা দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদলতের ২০টি কোর্টে। যদিও এসব সেবা চালু করার আগেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু থেকেই আধুনিক পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিচার বিভাগে ডিজিটালাইজেশনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। উচ্চ আদালতে অনলাইন কার্যতালিকা, অনলাইন বেইল কনফারমেশন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অনলাইন বুলেটিন উল্লেখযোগ্য।