নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করতে চায় আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এদেশে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করতে পারলে এখানে বসেই ভারত এবং মিয়ানমারে বড় ধরনের হামলা পরিচালনা করতে পারবে তারা। আইএসের মুখপাত্র সাময়িকী দাবিকের ১৪তম সংস্করণে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আইএসের বাংলাদেশ প্রধান শেখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ এ কথা জানিয়েছেন।-খবর বিবিসির।
সম্প্রতি এক বাংলাদেশি জিহাদির নাম প্রকাশ করেছে আইএস। ওই জঙ্গি সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইএসের মুখপাত্র সাময়িকী দাবিকের সর্বশেষ সংস্করণে ওই বাংলাদেশির প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও তার বেছে নেয়া নাম প্রকাশ করা হয়েছে। ওই জিহাদির নাম ‘আবু জান্দাল আল-বাঙালি’।
তবে ওই জঙ্গির পরিচয় সম্পর্কে নিরপক্ষে কোন সূত্র থেকে কোন তথ্য এখনি জানা যায়নি। দাবিকের এক খবরে বলা হয়েছে, আবু জান্দাল ঢাকার এক ধনী পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর অফিসার। তিনি ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হন।
এদিকে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের যোদ্ধা দলের প্রধানের পরিচয় প্রকাশ করেছে আইএস। আইএস বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন শাখার ঘোষণা করেনি। তবে এই সংগঠনের দাবি তাদের অনুসারীরা ধর্মনিরপেক্ষ লেখক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।
ওই হামলাগুলোর ব্যাপারে আবু ইব্রাহিম বলেন, নাস্তিক, নবীকে উপহাসকারী এবং মুরতাদদের গলা কাটার জন্য আমাদের যোদ্ধারা এখন চাকু ধার দিচ্ছে। তবে আইএসের প্রতিদ্বন্দ্বী দল আল-কায়েদার উপমহাদেশ শাখা আকিসও এ ধরনের হামলায় দায়িত্ব স্বীকার করেছিল।
দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা ব্যাখ্যা করে আবু ইব্রাহিম বলেন, ভবিষ্যতে হিন্দু ভারত এবং বৌদ্ধ বার্মার বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করা হবে। মুসলিম হত্যার প্রতিশোধ এবং ঐ অঞ্চলে আইএসের খিলাফত প্রতিষ্ঠাই জিহাদের মূল লক্ষ্য।
আইএসের ওই আঞ্চলিক প্রধান বলেন, ভারতের পূর্বদিকে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমে পাকিস্তান। আর একারণেই বাংলাকে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করলে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে একই সঙ্গে ভারতের মধ্যে গেরিলা যুদ্ধ চালানো সম্ভব হবে।
অপরদিকে, মিয়ানমার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থান জোরদার করার পরই তারা সে দেশে হামলা শুরু করবে।