রাসেল সরকার: সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন আয়োজিত জাতীয় বাজেট পরবর্তী অর্থআইন ২০১৬-১৭ এর ওপর সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সরদার আকিল আহমেদ ফারুকী বলেছেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চভিলাষী। অর্থমন্ত্রী নিজেও সেটা স্বীকার করেছেন। তাই আমরাও বলছি এই বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বাজেট উচ্চভিলাষী হলেও সরকার করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে গত অর্থবছরের চেয়েও বেশি রাজস্ব আয় করা সম্ভব।
এডভোকেট সরদার আকিল আহমেদ ফারুকী বলেন, ২০১৬-১৭ বাজেটে তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। এবার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার মধ্যে আয়কর খাতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ আদায়ে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন এর আয়কর আইনজীবীরা সহযোগিতা করে থাকি।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে আয়কর আইনে কয়েকটি ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি বেশ কিছু আইনের পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন অথবা সন্নিবেশের ফলে করদাতারা হয়রানির স্বীকার হবেন বলে আমারা মনে করি। এতে করে সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেলেও করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির যে অঙ্গীকার তা বাধাগ্রস্ত হবে।
এসময় প্রস্তবিত বাজেটকে বাস্তবায়ন করতে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন বিভিন্ন ট্যাক্স আইনের পরিবর্তন ও সংশোধনসহ হাঁস-মুরগী, পশুপালন, দুগ্ধ খামার করমুক্ত রাখা ও শিল্প কারখানা স্থাপনে সহজ শর্তে ট্যাক্স হলিডে প্রদানসহ ১৬টি সুপারিশ করেন।
এডভোকেট সরদার আকিল আহমেদ ফারুকী আরও বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেট অনেকটাই জনগণ নির্ভর। তাই জনগণের কাছ থেকে বাজেট নিতে হলে বাজেট আইন শিথিল করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে বিভিন্ন ট্যাক্স আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করতে হবে। নতুন কোম্পানিকে অপ্রদর্শিত আয় দ্বারা শিল্প-কারখানা স্থাপনে এবং সহজ শর্তে ট্যাক্স হলিডে প্রদান করলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শনের সুযোগের আওতা বাড়ালে সরকার অধিক রাজস্ব পাবে। ফলে বিদেশি ঋণনির্ভরতা কমে যাবে।
ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কাযনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম সরদার, কোষাধ্যক্ষ জাফরুল হাসান অপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াদুদ, আইসিটি বিষয়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।
উল্লেখ্য ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন জাতীয় বাজেট পরবর্তী অর্থআইন নিয়ে নিজেদের বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সামনে পেশ করলো। সরকারের রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করা এই সংগঠনটি এতদিন ধরে ছিল অবহেলিত। জাতীয় রাজস্ব ভবনে সীমিত পরিসরে কষ্টকরভাবে কাজ করে চলেছে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন। সরকারের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে নিজস্ব ভবন তৈরীর জন্য জায়গা প্রদান করা হলে ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন আরও বৃহৎ আকারে রাজস্ব খাতে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে।