মাহমুদ হাসান খান রোমেল: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) প্রকাশ করা হবে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে একথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থই ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে। এনিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তাই এখনই এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, চুরি যাওয়ার প্রায় সব অর্থই ফেরত পাবো। ইতিমধ্যে ৮০ মিলিয়ন ডলার ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ফিলিপাইন সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। অর্থ ফেরতের বিষয়ে তারা খুবই আন্তরিক। তাদের সরকার প্রধানকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানালে তিনি পুরো অর্থ ফেরত না দেওয়ার বাংলাদেশে আসবেন না বলেও জানিয়েছেন।
মুহিত বলেন, গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর) আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে রিপোর্ট প্রকাশ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার তিনি ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। কিন্তু বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দেন, সহসা ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ফরাসউদ্দিন গত ৩০ মে ওই প্রতিবেদন দেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, রিপোর্টে যা আছে, তা অবশ্যরই প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কয়েক দফা সময় দিয়েও কথা রাখেননি মুহিত। এবার তিনি যুক্তি হিসেবে ফিলিপিন্সে টাকা উদ্ধারে মামলা চলার কথা বলেছেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে ৮১ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে। অপর আদেশে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয় ২০ লাখ ডলার।
শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শেষ পর্যন্ত আটকানো গেলেও ফিলিপাইনের ব্যাংকে যাওয়া অর্থের বেশিরভাগই স্থানীয় মুদ্রায় বদল হয়ে জুয়ার টেবিল ঘুরে চলে যায় নাগালের বাইরে।