মাহমুদ হাসান খান: সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে সমাবেশ করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এতে রাজধানীর প্রেসক্লাব, পল্টন, হাইকোর্ট, শাহবাগ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বুধবার বিকাল ৩টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন ওই সমাবেশের আয়োজন করে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ওই সংগঠনের আহ্বায়ক।
জানা যায়, বিকাল ৩টার আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে সরকার দলীয় সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে গেলে পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে সব যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার অান্দোলনের অাহ্বায়ক ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, একশ পঁচানব্বই বা দুইশ চিহ্নিত পাক সেনা কেন এ সংখ্যা দুই হাজার হলেও তাদের সকলের বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ গঠিত এই সংগঠনটি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করতে যাওয়ার প্রাক্কালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শাহজাহান খান বলেন, পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ চুক্তি অনুযায়ী চিহ্নিত ১৯৫ পাক সেনার বিচার, বাংলাদেশের জনগণের কাছে সে দেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনা ও আর্থিক হিসাব নিকাশ মেটানোর কথা থাকলেও তারা সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যেহেতু তারা চুক্তি ভঙ্গ করেছে সেক্ষেত্রে তাদের বিচারে আর কোনো বাধা নেই। এখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত অনুযায়ী যত জনের নাম আসবে সবার বিচার হবে। ইতোমধ্যে নতুন করে আরো বেশ কিছু পাক সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তথ্য পাওয়া গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, একশ পঁচানব্বই বা দুইশ চিহ্নিত পাক সেনা নয়, এ সংখ্যা যদি দুই হাজারও হয় তাদের বিচার করতে হবে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, শহীদের সংখ্যা, জাতির জনক, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীতের বিপক্ষে কথা বলবে তাদের বিচারের জন্যও একটি আইন করার দাবি জানান তিনি। পাকিস্তানের গা জ্বলা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা সবকিছুতেই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। জঙ্গিবাদীদের মদদ দিচ্ছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে চালানো গণহত্যাকে অস্বীকারের চেষ্টা করছে।
অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, ইসমত কাদির গামা, ওসমান আলী, কামরুল আলম সবুজ, রোকেয়া প্রাচী, আব্দুল মালেক মিয়া, বদরুদ্দোজা নিজাম, এম ফরিদুজ্জামান খান সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে একটি মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।