আদালত প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন হবে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ। আইনজীবী সমিতির ভবনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত আইনজীবীরা অংশ নিলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সম্মিলিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (সাদা প্যানেল) এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এর মধ্যে মূল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। দুটি প্যানেলই দলীয়ভাবে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।
সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এবার সভাপতি এবং মো: আজাহার উল্লাহ ভূঁইয়া সম্পাদক পদে সাদা প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে সুরাইয়া বেগম, মো: তাহিরুল ইসলাম, ট্রেজারার পদে মো: রমজান আলী সিকদার, সহ-সম্পাদক পদে শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, এ কে এম রবিউল হাসান সুমন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে কুমার দেবুল দে, খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, এম আশরাফুল ইসলাম, মো: আবদুল আজিজ মিয়া মিন্টু, মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, নাসরিন সিদ্দিকা লিনা, শাহানা পারভীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, ঢাকা বার এসোসিয়েশন, ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পরাজিত হয়েছেন। এর ধারাবাহিকতা সুপ্রিম কোর্ট বারেও থাকবে বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের। ইতিমধ্যে সাদা প্যানেলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলো হলো- প্রায় ৩০০০ (তিন হাজার) নতুন সদস্যের জন্য কিউবিকেলস তৈরি, স্বাস্থ্য সম্মত কেন্টিন তৈরি, সুপ্রিম কোর্ট বারের বহুতল ভবন নির্মান।বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের এইসব দাবী অনতিবিলম্বে পূরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও বারের তিন বারের সম্পাদক দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকেনের নেতৃত্বাধীন নীল প্যানেলও তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, মোহাম্মাদ মোস্তফা, ট্রেজারার পদে নাসরিন আক্তার বিউটি, সহ-সম্পাদক পদে মো. শহিদুজ্জামান, ইউসুফ আলীসহ সাতজন কার্যনির্বাহী সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া এই নির্বাচনে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ এবং সম্পাদক পদে আরো দুজন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় আইন সমিতির সভাপতি শাহ মো. খসরুজ্জামান সভাপতি পদে নির্বাচন করার প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না বলে জানা গেছে।
গত বছরের মতো এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ। তাকে সহযোগিতা করবেন আরো ৩০-৪০ জন আইনজীবী। আজ রোববার নির্বাচনের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ নির্বাচন হবে। চলতি কমিটির দায়িত্ব ৩১ মার্চ পর্যন্ত। দু’দিনব্যাপী এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ মোট ১৪টি কার্যনির্বাহী পদে আইনজীবীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৫ হাজারের অধিক। নির্বাচন পরিচালনার জন্য সিনিয়র আইনজীবী মো. হারুনর রশীদকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যের উপ-কমিটি। কমিটির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ মেয়াদে নির্বাচনে ১০ মার্চ পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। ১০ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার পর যাচাই-বাছাই শেষে আজ ১৩ মার্চ ৫টার মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।