
নিউজ ডেস্ক: সরকারি কোম্পানি আগ্রহী না হওয়াতে প্রিপেইড মিটার সংযোগ বেসরকারিতে যেতে পারে। প্রায় দুই কোটি প্রিপেইড মিটারের চাহিদার বিপরীতে বিতরণ কোম্পানিগুলো ১ লাখ ৪৭ হাজার মিটার বসানোর কাজ নিয়ে দু’বছর ধরে থেমে আছে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ। বিতরণ কোম্পানির অনীহার কারনের ফলে প্রকল্পটি বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এই জন্য গত ১৬ নভেম্বর প্রিপেইড মিটার বাজারে উন্মুক্ত করার বিষয়ে বিতরণ কোম্পানির মতামত চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। অনেক বিতরণ কোম্পানি ইতোমধ্যে সরকারের কাছে মতামতও পাঠিয়েছে।
সিস্টেম লস কমাতে, বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০১৩ সালে এ বিষয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তখন বলা হয়েছিল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগের সুত্র থেকে জানা যায় যে, কোন বিতরণ কোম্পানিই সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ করছে না। এমন কি পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিলেও ব্যাপক ভিত্তিতে প্রিপেইড মিটারের সম্প্রসারণে কোনো কোম্পানির আগ্রহ নেই।’
এখন সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে ৯১ হাজার প্রিপেইড মিটার রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আরো ২২ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
২০১৩ সালে প্রকল্প শুরুর সময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি ) বলেছিল, চট্টগ্রাম থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এখানে ১ লাখ ৩৯ হাজার মিটার স্থাপন করা হবে। এরপর ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লায় আরো ১ লাখ ৩৮ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে রাজশাহী-পাবনা-ইশ্বরদীর গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটার পাবেন। এভাবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব সাধারণ মিটার তুলে নিয়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে। কিন্তু পিডিবি এখন পর্যন্ত তার পরিকল্পনার আংশিকও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
এছাড়া পাইলট প্রকল্পের আওতায় অন্য চার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ৩০ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। এরমধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১০ হাজার ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১০ হাজার, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ওজোপাডিকো) পাঁচ হাজার করে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করার কথা। দুই বছর পর প্রকল্পের আংশিক বাস্তবায়নের দাবি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
এই ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৬ নবেম্বর প্রিপেইড মিটার বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে বিতরণ কোম্পানির মতামত চায়।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) গত ১৯ নভেম্বর মতামত দেয়। চিঠিতে কয়েকটি শর্তের কথা বলা হলেও বাজারে উন্মুক্ত করার বিষয়ে ডিপিডিসি কোনো আপত্তি তোলেনি। এ মতামতে বলা হয়, যেসব কোম্পানি মিটার প্রস্তুত করবে তাদের প্রত্যেককে ডিপিডিসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। সব মিটার একই ধরনের (ইউনিফাইড)। এজন্য প্রিপেইড মিটারের স্ট্যান্ডার্ড, স্পেসিফিকেশন ও ডিজাইন ডিপিডিসি থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
এদিকে প্রি-পেইড মিটার নিয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বিতরণ কোম্পানির অপারগতায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আপনারা না পারলে বাজার উন্মুক্ত করা হবে কারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি রোধ এবং সরকারের আয় বাড়াতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়িত করতে হবে।