অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারিনি। এজন্য ৩০ নভেম্বর আমি এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তারা (এনবিআর) সময় দিয়েছিল। আজ আমি রিটার্ন সাবমিট করলাম। বুধবার আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫-১৬ করবর্ষে মোট ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা আয়কর দিয়েছেন তিনি। বহুদিন পর এবার আমার ইনকাম বেড়েছে চার লাখ টাকার কিছু বেশি। আমি মোট এক লাখ ১৭ হাজার ৫৩৩ টাকা কর দিয়েছি। এর মধ্যে রিফান্ড পেয়েছি ৬১ হাজার ৬৬৩ টাকা। কারণ আমার প্রকৃত ট্যাক্স এসেছে ৫৫ হাজার ৮৭০ টাকা। এক কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ থাকার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছর এটি ছিল এক কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এর মধ্যে এ বছরের আয় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৭ টাকা। করযোগ্য আয় ১০ লাখ ১৩ হাজার ৭২২ টাকা, যা গতবছর ছিল সাত লাখ টাকার মতো।” ১৯৫৫ সালে প্রথম এবং ১৯৬০ সালে দ্বিতীয়বার আয়কর দেওয়ার পর কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় সেখানেই কর দেন মুহিত। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত দেশে আয়কর দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সাধারণত আয়কর বিবররণী দাখিল করার সময় হলো ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে ব্যবসায়ী ও করদাতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছরই সময় বাড়ে, যা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এবছরও সময় বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিয়েছিল এনবিআর; তবে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত মন্ত্রী ওই সময়ের মধ্যেও আয়কর বিবরণী দাখিল করতে না পেরে আরও সময়ের আবেদন করেন।
গত ১৯ নভেম্বর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনের শীতকালীন আয়কর মেলার উদ্বোধন করে মুহিত বলেছিলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি নির্দিষ্ট দিনে করদাতারা রিটার্ন দাখিল করেন। যেমন আমেরিকায় ১ এপ্রিল সবাই রিটার্ন দাখিল করে থাকে। আমি নিজে আমেরিকায় ৭/৮ বার রিটার্ন দিয়েছি। সেখানে আমাদের মত টাইম এক্সটেনশন করার দরকার হয় না। আমার মনে হয়, আমাদেরও সেই রকম করার দিন চলে এসেছে।
বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার বাজেট ঘাটতি বাড়বে কি না- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। কারণ সেটা তো আগে থেকেই ঠিক করা। তবে রাজস্ব আদায় অক্টোবর পর্যন্ত একটু ধীর ছিলে। তবে নভেম্বরে অনেক ভালো হয়েছে। এরপরও যদি কিছু ঘাটতি থাকে, তাহলে হয়তো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিছু কাটছাঁট হবে।