আদালত প্রতিবেদক: দৈনিক মামলার কার্যতালিকা (কজলিস্ট) অনলাইনের সঙ্গে সঙ্গে কাগজে ছাপানো কজলিস্ট বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্মিলিত আইনজীবীরা।
রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনের চত্বরে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বার কাউন্সিলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, সাবেক সম্পাদক শম রেজাউল করিম, মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, সাবেক সহ-সম্পাদক এবিএম রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, গোলাম মোহাম্মাদ আলাল।
আইনজীবীদের অনুরোধে কয়েক দফা কাগজের কার্যতালিকা চালু থাকলেও আজ থেকে এটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের। তবে জানা গেছে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে কজলিস্ট ছাপানোর সঙ্গে পাশাপাশি আবারো কাগজে ছাপানো কজলিস্ট প্রকাশ করা হবে।
তবে ১৫ এপ্রিল থেকে আর পাওয়া যাবে না কাগজে ছাপানো মামলার (কজলিস্ট) কার্যতালিকা। ওইদিন থেকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে হাইকোর্ট বিভাগের অনলাইন কার্যতালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে কাগজে ছাপানো মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা হারিয়ে যাবে চিরতরে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এক সাধারণ সভা আহ্বান করে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানায় সাধারণ আইনজীবীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বার নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র আইনজীবীরা বিকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে আইনজীবীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাগজে ছাপানো কার্যতালিকার পাশাপাশি অনলাইন কজলিস্ট চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেন। এরপর ১৫ এপিল থেকে কাগজে ছাপানো কজলিস্ট আর রাখা হবে না বলে আইনজীবীদের জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জ্যেষ্ঠ জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ, মো. দিলদার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচারক ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল হোসেন শিকদার ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. শামিম সুফি প্রমুখ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত নভেম্বর মাস থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। একইসঙ্গে ছাপানো হয় কাগজের কার্যতালিকাও। পরীক্ষামূলকভাবে তিন মাস উভয় পদ্ধতি অনুসরনের পর আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুরোপুরি অনলাইন কার্যতালিকা অনুসরণ করতে হবে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে। এর ফলে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ২১ কোটি টাকা। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদ্যোগে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। অনলাইন কার্যতালিকা মনিটর করার জন্য প্রধান বিচারপতি ৬ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করেছেন।