মো: জোবায়ের হোসেন: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার মানুষ মারা যায়- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরিসংখ্যানটি ঠিক নয়। সড়ক খাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অসত্য তথ্য দেয়া হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬ এর খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মাল্টি স্টেক-হোল্ডারদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালায় সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন। কর্মশালায় খসড়া আইনের ওপর আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে প্রস্তাবসমূহ চূড়ান্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. এন পারানিয়েথারান তার বক্তব্যে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশের ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেন। পারানিথারানের এই মন্তব্য খুব একটা সহজভাবে নিতে পারেননি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। নিজের বক্তব্যে ওই পরিসংখ্যানের ঘোর বিরোধিতা করেন তিনি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাঁধে অভিযোগ চাপিয়েই ক্ষান্ত হননি মন্ত্রী। উল্টো অভিযোগের যুক্তি খণ্ডনের জন্য ফের মঞ্চে ডাকেন, পারানিথারানকে। তখন শুরু হয়, দু’জনের দ্বৈরথ।
হাসি ঠাট্টায় ভরা বাকবিতণ্ডা শেষে, মন্ত্রী আইনের দু’একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেন। জানান, শাস্তির বিধান কঠোর হলে কমবে অপরাধ প্রবণতা। দিনব্যাপী কর্মশালায়, যোগাযোগ বিশ্লেষকরাও, আইনের কঠোরতা এবং প্রয়োগের উপর জোর দেন।
জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন পাস হতে পারে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা এখনও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারিনি। যানজট কমাতে পারিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রী কিংবা মন্ত্রণালয়ের খবরদারি নয়, আইন হতে হবে জনস্বার্থে। যেভাবেই হোক সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। একটি যুগোপযোগী আইন এবং এর বাস্তবায়ন সড়ক পরিবহন খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বিধান এবং যানজট কমিয়ে আনা কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী খান এবং বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।