
ইনা ফারজানা: জেএমবি সদস্যদের গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১ এর যেই বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে সেই বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিন) ছানোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত জেএমবির একটি গ্রুপের কমান্ডার আলবানীর কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঢাকার একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে তাদের কাছে বিস্ফোরকের সাপ্লাই আসে বলে তারা জানিয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর-১ এলাকা থেকে বুধবার সন্ধ্যায় মো. আবু সাঈদ ওরফে রাসেল ওরফে সালমানকে ডিবি প্রথমে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।
তিনি জানান, বুধবার রাত ২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত বাড়িটির আশপাশে অবস্থান নেয় ডিবি সদস্যরা। এ সময় বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের আত্মসমর্পণের অনুরোধ করা হয়। এর আগে বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ করেনি। এরপর আমরা ভেতরে প্রবেশ করি। দরজা ভেঙ্গে ছয় তলার ওই ফ্ল্যাটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করি। এ সময় তারা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। আমরাও শর্টগানের কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ি। সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করি।
ছানোয়ার হোসেন জানান, ওই ফ্লাট থেকে থেকে ইলিয়াস ওরফে ওমর ফারুক (২৩) ও মহসীন আলী ওরফে রুবেলকে (২০) গ্রেফতার করা হয়। ওমর ফারুক সাভারের আল-আরাফাহ ব্যাংকের পিয়ন ও বোমা তৈরিতে সহায়তা করে। রুবেল বোমা তৈরিতে পারদর্শী।
তিনি আরো জানান অভিযানের সময় শাকিল ও সোহেল রানা ওরফে রায়হান ওরফে ইমরান ওরফে হিরন নামে আরও দুই জন বাসায় না থাকার কারণে তাদেরকে গ্রেফতার করা যায়নি। এর মধ্যে শাকিল ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার ও জেএমবির এই অংশটির বোমা তৈরির প্রধান। সেই ওই গ্রেনেডগুলো তৈরি করেছে। সোহেল রানা ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জেএমবির গ্রুপটার কমান্ডার। এছাড়াও পাশের ফ্ল্যাট থেকে আটক চারজনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।