
শবনম শাহজাহান: বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের উন্নতি তারা দেখে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডবিøউটিও) সম্মেলনে সবাই বাংলাদেশকে প্রশংসার চোখে দেখেছে। অথচ সিপিডি কিছুই দেখতে পায়নি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
কেনিয়ার নাইরোবিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডবিøউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) প্রাপ্তিকে হতাশাজনক বলেছে সিপিডি। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি এই মূল্যায়নের কথা জানায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিপিডি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তাদের নিয়ে আমার কথা বলা মানানসই নয়। ডবিøউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যে সফলতাগুলো অর্জন করেছি, তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছি। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ওষুধ খাতে ১৭ বছরের মেধাস্বত্ব মানা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। ডবিøউটিও সম্মেলনে এই অব্যাহতি গৃহীত না হলে তা বাস্তবায়ন করা যায় না। এবারের সম্মেলনে তা গৃহীত হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এটা কি আমাদের প্রাপ্তি নয়?’ তিনি বলেন, পণ্য উৎপাদনে রুলস অব অরিজিন (উৎস বিধি) শিথিল হয়েছে। সেবা খাতে ছাড় (সার্ভিস ওয়েভার) পাওয়া গেছে। এগুলোও তো প্রাপ্তি। অথচ সিপিডির চোখে এগুলো পড়েনি।
মন্ত্রী বলেন, উন্নতির সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে। পাকিস্তানের চেয়ে সব সূচকেই এগিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে। অমর্ত্য সেনও এই কথা বলেছেন। সম্প্রতি বলেছেন কৌশিক বসুও (বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ)। পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সবার কাছ থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কিছু অর্জন নিয়ে সিপিডি হতাশ। কিন্তু কোন দেশের কারণে হতাশ, ওই দেশের নামটা কিন্তু সিপিডি বলেনি। আমার মনে হয় বললে তাদের অসুবিধা আছে।’