1. anikaslifebd@gmail.com : Khundkar Ayesha Shahriyar Anika : Khundkar Ayesha Shahriyar Anika
  2. khs@professionals.com.bd : bestnews : Khundkar Hasan Shahriyar
  3. khs85bd@gmail.com : Hasan Shahriyar : Khundkar Hasan Shahriyar
  4. rafat0071@gmail.com : Ashiqur Rahman : Ashiqur Rahman
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার হবে কবে?

বেস্ট নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

301

নিউজ ডেস্ক: প্রাচীন হিন্দু আমলে বিচার ও রাজকর্মকান্ডে যেমনিভাবে সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করা হতো, ঠিকতেমনিভাবে সুলতানি এবং বাদশাহী আমলে ফার্সি ভাষা ব্যবহার করা হতো। এই ভাষাগুলো সাধারণ মানুষ না বুঝলেও যারা রাজকার্য এবং বিচারকার্যের সাথে জড়িত থাকতো চাকরির প্রয়োজনে তাদের এসব ভাষা শিখতে হতো। ব্রিটিশ শাসকেরা সর্বপ্রথম দেশী ভাষা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ১৮৩৭ সালে ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা করার পাশাপাশি আইন-আদালত ও কোর্টের সকল কাজে বাংলা ভাষার প্রচলন করে। ফলে নিম্ম আদালতে আরজি, জবাব, দরখাস্ত ইত্যাদি বাংলায় লেখা হলেও সাক্ষীর জবানবন্দি ও আদালতের রায় ইংরেজিতে লেখা হতো। এছাড়া উচ্চ আদালতে আরজি, জবাব, দরখাস্ত ইত্যাদিতে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হতো এবং ওই আদালতের রায় ও আদেশ ইংরেজি ভাষায় প্রদান করা হতো।

ষাটের দশকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন জোরদার হলে ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজির সাথে বাংলাকেও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন থেকেই আইন মহাবিদ্যালয়ে বাংলায় আইন শিক্ষা দেয়া শুরু হয়। ফলে আদালতে বাংলার ব্যবহার বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাহী আদেশে সকল স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই আইন-আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জোয়ার আসে, এমনকি যে হাইকোর্টে বাংলার ব্যবহার এতদিন ছিল না সেখানেও প্রতীকি বাংলার ব্যবহার হিসেবে দৈনিক শুনানির তালিকা (কর্জ লিস্ট) বাংলায় ছাপা হতে থাকে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ফলে সংবিধান বাংলায় রচিত ও প্রণীত হওয়ার পাশাপাশি ইংরেজি পাঠের সাথে বাংলা পাঠের বিরোধের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৫৩(৩) অনুচ্ছেদে বাংলা পাঠকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য একটি মহল প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এই অপচেষ্টা রোধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে- “ (১) এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিত হইবে। (২) (১) উপধারায় উল্লেখিত কোন কর্মস্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহা হইলে উহা বে-আইনী ও অকার্যকর বলে গণ্য হইবে। (৩) যদি কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন, তা হলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তাহার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। ”

এই আইন প্রচলের পর থেকে সব আইন, অধ্যাদেশ, বিধিবিধান, প্রজ্ঞাপন ইত্যাদিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার শুরু হয়, যা এখনো অব্যহত আছে। কিন্তু আদালতের কিছু আইনজীবি এবং বিচারক ইংরেজি ব্যবহারের অহমিকা এখনো ত্যাগ করতে পারেননি। তাই এ আইন প্রচলনের পরও কোন কোন আদালতে আরজি, জবাব, দরখাস্ত ইত্যাদিতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার চালু আছে।

হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে যারা আইনচর্চা করেন, তাদের মধ্যে একমাত্র অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন ও ভাষাসৈনিক গাজীউল হকই সকল আদালতে বাংলা ভাষা ব্যবহার শুরু করলেও প্রায় সকল আইনজীবিই এখনো আদালতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার চালু রেখেছেন। বিচারপতিদের মধ্যে একমাত্র প্রয়াত আমীরুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ভাষায় আদেশদান ও রায় লেখা শুরু করে পথিকৃত হয়েছেন। সরকার কর্তৃক আইনের ক্ষমতাবলে জমি অধিগ্রহনের জন্য ধার্য ক্ষতিপূরণের মামলাগুলোতে নিম্ম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে যেসব আপিল সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি বা রাষ্ট্র দাখিল করতো, সেসব মামলায় প্রদত্ত বিচারপতি আমীরুল ইসলাম চৌধুরীর রায়গুলো নজির সৃষ্টিকারী না হওয়ায় তা কখনো আইন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি। এ অবস্থায় ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৯৫ সালে কয়েক মাসের জন্য বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদ অলংকৃত করার সময় পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের উচ্চ আদালতে নেপালি ভাষার ব্যবহার দেখে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বাংলায় রায় প্রদানে উদ্ধুদ্ধ করতে থাকেন। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক সেসময় বিচারপতি হাবিবুর রহমান এর বক্তব্যকে সমর্থন করেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমান নিজে কোন রায় বাংলা ভাষায় প্রদান না করায় অন্য বিচারপতিরা বলতে থাকেন, “বাংলায় রায় লেখা কঠিন।” তাদের আরও কথা ছিল- “আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শেখায়।” এ কথাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্য ঢাকা ল রিপোর্টস এর কয়েকটি সংখ্যা বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলে তা দ্রæতই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি হাইকোর্ট বিভাগে বিভিন্ন মামলার শুনানিকালে ওইসব বাংলায় ছাপা ঢাকা ল রিপোর্টস উদ্ধৃত হতে থাকে।

বিচারপতিদের মধ্যে যখন বাংলায় রায় প্রদান নিয়ে বিতর্ক চলছিল, তখন ১৯৯৮ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে বিচারপতি কাজী এবাদুল হক এবং বিচারপতি হামিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ একটি ফৌজদারি রিভিশন মামলায় বাংলায় রায় প্রদান করেন। নজরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র নামক ওই নজির সৃষ্টিকারী রায়টি আইন সাময়িকী ঢাকা ল রিপোর্টসের ৫০ ডিএলআর পৃষ্ঠা ১০৩ এ ছাপা হয়েছে। একই দিনে বিচারপতি হামিদুল হক অপর একটি ফৌজদারি রিভিশন মামলার শুনানির পর একটি নজির সৃষ্টিকারী রায় বাংলায় প্রদান করেন। আবদুল আজিজ বনাম সেকান্দ আলী নামক সে রায়টি ৫০ ডিএলআর পৃষ্ঠা ১১১ তে ছাপা হয়েছে। এরপর একটি দেওয়ানি রিভিশন মামলায় দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারার ব্যাখ্যা বিষয়ক নজির সৃষ্টিকারী অপর একটি রায় বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বাংলায় প্রদান করেন। হাবিবুর রহমান বনাম সেরাজুল ইসলাম নামক ওই মামলাটির রায় ৫১ ডিএলআর পৃষ্ঠা ১৪৭ এ প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়া ৫১ ডিএলআর পৃষ্ঠা ১৬ তে প্রকাশিত ফৌজদারি মামলা বিচারে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের সুবিধা কখন আসামি লাভ করতে পারে সে বিষয়ক সবুর আলম বনাম রাষ্ট্র মামলার রায়, ৫১ ডিএলআর পৃষ্ঠা ৮৩ তে প্রকাশিত একটি ফৌজদারি মামলায় পুলিশের সাক্ষ্য কখন বিশ্বাসযোগ্য বলে গ্রহণ করা যাবে তার ব্যাখ্যা বিষয়ক আবদুর রেজ্জাক বনাম রাষ্ট্র মামলাটির রায়সহ বিভিন্ন দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রিট মামলার রায় বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, বিচারপতি হামিদুল হক, বিচারপতি আবদুল কুদ্দুছ, বিচারপতি এ আর এম আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি ফজলুল করিম এবং বিচারপতি খায়রুল হক বাংলা ভাষায় প্রদান করেছেন। তারা এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন বাংলা ভাষায় আইনসম্মতভাবে সুন্দর রায় প্রদান করা সম্ভব। যা পরবর্তীতে ভাষা সৈনিক গাজীউল হক প্রণীত উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলন গ্রন্থে এবং বিভিন্ন আইন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতে ব্যবহারের সুবিধার্থে আইনের বাংলা পরিভাষার অভাব দূর করার জন্য কানাডা সরকারের সাহায্য প্রতিষ্ঠান সিডার এর অর্থানুকূল্যে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সম্পাদিত আইন শব্দ কোষ প্রকাশিত হয়েছে।

পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ সালে প্রণীত হাইকোর্ট বিধিমালার দ্বিতীয খন্ডের চতুর্থ পরিচ্ছেদের ১ নম্বর বিধিতে হাইকোর্ট বিভাগে ইংরেজি ব্যবহারের যে বিধান করা হয়েছে, তা এখনো বহাল আছে। ওই বিধি বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি তাই সংগতভাবেই তা অকার্যকর। কারন সংবিধান পরিপন্থী কোন আইন বহাল থাকতে পারে না। তাই হাইকোর্ট বিধিমালা হাইকোর্ট বিভাগে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের কোন অজুহাত হতে পারে না। ১৯৯১ সালের ২৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চের এক রায়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রভাষার অর্থ হলো তিনটি- রাষ্ট্রভাষা, অফিসের ভাষা এবং আদালতের ভাষা। রায়ে আরও বলা হয়, আদালতের ভাষা রাষ্ট্রভাষার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। ওই রায়ে আদালত মন্তব্য করেন- বাংলা ও ইংরেজি উভয়ই যেকোন আদালতে ব্যবহার হতে পারবে। এমনকি রাষ্ট্রভাষা নয় এমন ভাষাও আদালতে চলতে পারবে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই রায়ের কোথাও বলা হয়নি উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা ব্যবহার করা যাবে না।

যেখানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দিন ২১ শে ফেব্রæয়ারি সমগ্র বিশ্বে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়, সেখানে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা এখনো সর্বস্তরে ব্যবহার না হওয়াটা দুঃখজনক। আইনজীবি এবং বিচারপ্রার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে তাই অবিলম্বে উচ্চ আদালতের সকল কর্মকান্ড বাংলা ভাষায় চালু করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© ২০১৫-২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |