সুমন চৌধুরী: গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টীয় বছরের শেষ দিনটিকে বিদায় জানিয়েছে মানুষ। একই সঙ্গে তারা ২০১৬ সালের নতুন বছরকে বরণ করেছে। এবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ইংরেজী বর্ষবরণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা একটু বেশিই ছিল। সে কারণে নিরাপত্তায় ছিল বাড়তি কড়াকড়ি। নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর হতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ আসায় কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছিল পুলিশ।
গতকাল সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে বর্ষবরণের সকল প্রকারের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নং রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি রোড ক্রসিং, আমতলী ক্রসিং শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস, বারিধারা, ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিংগুলো দিয়ে গুলশান, বারিধারা, বনানী এলাকার প্রবেশ পথগুলো সন্ধ্যার পরই যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে পুরো রাজধানী জুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সড়কের মাঝপথে বসানো হয় পুলিশের তল্লাশি চৌকি। রাত ৮টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হলেও রাত ১২টার পর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতীতের মতো রাস্তায় কাউকে দেখা যায়নি থার্টি ফার্স্টের উৎসব করতে। তারকা হোটেল বা ক্লাবের অনুষ্ঠানে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজারো সদস্য ঢাকার রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিটি গাড়িতে করা হয়েছে তল্লাশি।
তবে বিধিনিষেধ আর কড়াকড়ির মধ্যেও থেমে থাকেনি উৎসব। সীমিত পরিসরে, নিজ নিজ এলাকায়, ভবনের ছাদে বা ঘরোয়া পরিবেশে ২০১৫ সালকে বিদায় জানিয়েছে নগরবাসী। পুরোনো ক্ষত ভুলে গিয়ে নতুন আশায় বুক বেঁধে ২০১৬ সালকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় থেমে থেমে পটকা ফাটানো হয়েছে। পোড়ানো হয়েছে আতশবাজি। কেউ উড়িয়েছে ফানুস। বন্ধুরা, স্বজনেরা জড়ো হয়ে হইচই করেছে। কেক কেটেছে। জমজমাট বারবিকিউ পার্টি করেছে। প্রাণ খুলে গান ধরে আড্ডা করে রাত কাটিয়েছে কেউ কেউ। সন্ধ্যার পরই ফেসবুক, টুইটার সরগরম হয়ে ওঠে। সেখানে রাতভর চলেছে স্ট্যাটাস, সেলফি আর দেয়ালচিত্রের বর্ষবরণ।