নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি টেলিটক এবং বিটিসিএল-এর লোকসান কমাতে চায় সরকার। আর তাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
জানা গেছে, শিগগির এই সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সচিবালয়ে একটি মিটিং ডাকা হবে। চলতি ২০১৬ সালের মধ্যেই টেলিটক-বিটিসিএল একীভূত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে এই দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে এই ব্যাপারে কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায় তা জানতে চেয়েছেন জয়। এদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় একইসঙ্গে শিগগির টেলিটককে মোবাইল ফিন্যান্স সার্ভিস চালু করার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন।
টেলিটক তাদের মোট তিন হাজার ৭৫০ বিটিএস (টাওয়ার)-এর মধ্যে এক হাজার ৫৬২ বিটিএসে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পেরেছে। দেশের ৪৭৬টি উপজেলায় এখনও টুজি সেবা দিচ্ছে টেলিটক এছাড়া ৯১টি উপজেলায় থ্রিজি সেবার আওতায় এসেছে। শিগগির আরও ১ হাজার বিটিএস বসাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিটিসিএল দেশজুড়ে তাদের সেবার সম্প্রসারণ করতে পেরেছে। দেশের ৪৮৬টি উপজেলার মধ্যে ৪৮১টি উপজেলায় কাভারেজ রয়েছে বিটিসিএল-এর। এই ল্যান্ডফোন অপারেটরটি ৫ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে ১২৬টি উপজেলা এবং ১০৮টি ইউনিয়নে এই নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ২ জুন বিটিসিএল, টেলিটক এবং সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল)কে একত্রীভূত করতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই বছরের ৩০ এপ্রিল এই তিনটি কোম্পানিকে একত্রীভূত করে একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করার সুপারিশ করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে প্রাথমিক অবস্থায় বিটিসিএল ও টেলিটককে একীভূত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি আলোচনার বাইরে থাকলেও সজীব ওয়াজেদ জয়ের একান্ত ইচ্ছায় এ প্রকল্পের গতি ফিরতে যাচ্ছে।