1. anikaslifebd@gmail.com : Khundkar Ayesha Shahriyar Anika : Khundkar Ayesha Shahriyar Anika
  2. khs@professionals.com.bd : bestnews : Khundkar Hasan Shahriyar
  3. khs85bd@gmail.com : Hasan Shahriyar : Khundkar Hasan Shahriyar
  4. rafat0071@gmail.com : Ashiqur Rahman : Ashiqur Rahman
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে: সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন

বেস্ট নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

আদালত প্রতিবেদক: সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিরাজমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেন, রাজাকারদের নাগরিকত্ব বিষয়ে আইনে আছে একজন রাজাকার যদি থাকে তার সম্পদ তার ছেলে-মেয়েরা পাবে না। রাজাকারা তো চলে গেছে ৪০-৪২ বছর আগে। আমরা যেভাবে চলছি তা তো ভবিষ্যত অন্ধকার মনে হচ্ছে। বাবার শাস্তি ছেলে ভোগ করবে? ফৌজদারি আইনে একজনের শাস্তি আরেকজন ভোগ করতে পারে না। গণতান্তিক সরকারের এসব থাকার কথা নয়, জনগণের জন্য আইন হওয়ার কথা-এ বিষয়ে দেখা উচিত আমরা কোথায় যাচ্ছি?

তিনি বলেন, আমি গতকালের (সোমবারের) একটি পত্রিকায় কলাম পড়েছি। তাতে রাজাকারের সন্তানদের নাগরিকত্ব ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। শুনেছি এটি সংসদে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় যে সংবাদ দেখেছি, তা খুবই বিপদজনক। যেকোন নাগরিককের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারবে সরকার।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রায় লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সময় নিয়ম ছিল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকেরা এজলাসে বসে রায় ঘোষণা করবেন, আইনজীবীরা বসে শুনবেন, কোনো কিছু বাদ গেলে তো বলবেন। আর আপিল বিভাগ শুধু আদেশ অংশ ঘোষণা করতেন। পূর্ণাঙ্গ রায় আসবে পরে। তাই আমি করি না যে অবসরের পর রায় লেখা বে-আইনি হবে। তবে অবসরের পর রায় লিখতে হলে কোনোভাবেই আদেশ অংশ পরিবর্তন করা যাবে না। আদেশ অংশ পরিবর্তন করতে হলে রিভিউ করতে হবে। এটা না করে ছয় মাস বা এক বছর বা দেড় বছর পর যদি কেউ রাতের অন্ধকারে রায়ের আদেশের অংশ পরিবর্তন করে তবে সেটি হবে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তো সেটা করলাম, সেটি ঠিক হয়নি। এ কারণেই প্রধান বিচারপতি বলছেন এটা বে-আইনি। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রনয়ণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন দিতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সঠিক রাস্তায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করছেন। আপনাদের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। বিচার বিভাগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আপনারা বিচার বিভাগকে বাচান। দেশ রক্ষা করুন। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাক আমরা চাই না। বিচার বিভাগ সম্পর্কে যখন ভালো কিছু শুনানি তখন মনটা ভরে যায়।

বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেন, এখন তো শুনি হাইকোর্টে কেউ কেউ প্রকাশ্য আদালতে রায় দেন না, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন, আগে এটা ছিল না, এখন মাসের পর মাস পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয় না, বিচারপ্রার্থীদর ভোগান্তি হয়, জজ সাহেব সম্বন্ধে নানা আলাপ-আলোচনা হয়। তিনি রায় লিখতে পারেন না বলেই প্রকাশ্যে রায় বা আদেশ দেন না। এখন নাকি রুল দেয়া নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র বিতর্ক হয়, সিনিয়র এজলাস থেকে নেমে যান, এটি দুঃখজনক-লজ্জাজনক। এ জন্য দায়ী আইনজীবীরা। কারণ আইনজীবীদের দায়িত্ব কাউকে খালাস করে দেয়া বা কাউকে শাস্তি দেয়া নয়। তাদের দায়িত্ব ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতকে সহায়তা করা।

হাইকোর্ট থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা দরকার। তিনি বলেন, নিমগাছ থেকে কোনো দিন ফজলি আম হবে না। বিচারপতি নিয়োগের জন্য অবশ্যই নীতিমালা লাগবে। এ জন্য সবাইকে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে, প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঠিকমতো বিচারক নিয়োগ দিলে এখনকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।

আইনজীবীদের মধ্যে দলীয় পরিচয় ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমিও এককালে বড় দল করেছি, মন্ত্রী হয়েছি, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে কোনো দিন দলীয় পরিচয় দিইনি। আমরা মানুষের শ্রদ্ধা হারাচ্ছি, সেটা পুনরুদ্ধার করতে হবে।’যেসব আইনজীবী দলীয় আনুগত্যের মাধ্যমে সরকারি কৌঁসুলি বা বিচারক হতে চান, তাঁদের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘কিছু পাওয়ার, খাওয়ার বা খাওয়ানোর জন্য দালাল হয়ে যাবে? দলীয় পরিচয় নিয়ে কি আমরা অমানুষ হতে চাই?

আইনজীবীদের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘একদিন আপিল বিভাগে গিয়ে শুনি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা সিরাজুল হকসহ ১৩ জন সিনিয়র আইনজীবীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আইনজীবীরা এক হয়ে তাঁদের নাজিমুদ্দিন রোড থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আইনমন্ত্রীকে বলছি, তোমার পিতাকে কেন জেলে যেতে হয়েছিল? উনি দালালি করেননি বলে জেলে যেতে হয়েছিল।’ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ড. কামাল বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে অসুস্থ হয়ে আছে, আর যারা তাঁদের ভক্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে আছে, আমরা তাঁদের সুস্থতা কামনা করি।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় নয়, বিরাজমান পরিস্থিতি বিব্রতকর। তিনি বলেন, ‘শিশু আবদুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোতাহার র্যা বের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় টিভিতে দেখলাম এলাকাবাসী উল্লাস করছে, মিষ্টি খাচ্ছে এবং বলছে ন্যায়বিচার হয়েছে। তাহলে আমাদের অবস্থা কোথায়? মানুষ মনে করছে এটাই বিচার। জনগণকে এটা মনে করাতে আমরা বাধ্য করেছি।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘গ্রামে-উপজেলায় দেওয়ানি বিচার হয় থানায়, আর ফৌজদারি বিচার হয় ক্রসফায়ারে।’ তিনি বলেন, আইনজীবীদের ওপর বিচারপ্রার্থীদের আস্থা চলে যাচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন শুধু নিজের দলের কথাই বলছেন। কেউ বিচারপ্রার্থীদের কথা বলছেন না। ন্যায়বিচার না থাকলে সমাজ থাকে না, দেশ ধ্বংস হয়ে যায়। তাঁর মতে, সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে বাহাত্তরের সংবিধানের ষষ্ঠ অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে যা চলছে—সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি আমতলা, গাছতলায় প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দেন, তাতেই বোঝা যায় আমরা কোথায় আছি।’

আলোচনা সভায় লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন আইনজীবী জাহিদুল বারি। তিনি বলেন, বিচারপতিরা যেভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বিবাদে লিপ্ত হচ্ছেন, তাতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম খসরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মো: হেলাল উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট আবু ইয়াহিয়া।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© ২০১৫-২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত |