মো: জোনায়েত হোসেন: মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২২৯ রানে বিশাল রানের পাহাড় গড়ে তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে টর্নেডো গতিতে শুরু করে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য এই বিশাল লক্ষ্যও পার হয়ে গেলো ইংল্যান্ড এবং ২ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়ে গেলো ইয়ন মরগ্যানের দল। তবে শেষ ওভারে কিছুটা রোমাঞ্চ তৈরী করেছিলেন কাইল অ্যাবট। আর আগের ওভারে আউট হয়েছিলেন জো রুট। তাতেও কোন লাভ হলো না প্রোটিয়াদের। পরাজয় ঠেকাতে পারলো না। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়লো ইংল্যান্ড।
দুই ওপেনার টর্নেডো গতিতে রান তুলতে শুরু করার পর ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো ইংল্যান্ডের বাকি ব্যাটসম্যানরা। জ্যাসন রয়ের ১৬ বলে ৪৩, জো রুটের ৪৪ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসই অবিশ্বাস্য জয় এনো দিল ইংল্যান্ডকে। আলেক্স হেলস ৭ বলে ১৭, বেন স্টোকস ৯ বলে ১৫, মরগ্যান ১৫ বলে ১২, বাটলার ১৪ বলে ২১ রান করে দুর্দান্ত এই জয়ে অবদান রাখেন।
২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য। কিন্তু ইংল্যান্ড কোনভাবেই ভয় পায়নি। বরং, শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর টর্নেডো বইয়ে দিতে শুরু করেন দুই ওপেনার জ্যসন রয় এবং আলেক্স হেলস। প্রথম ওভারেই কাগিসো রাবাদাকে ৫বার বাউন্ডারিছাড়া করেন ইংলিশ ওপেনাররা। দ্বিতীয় ওভারে ডেল স্টেইনের মত পেসারের ওপর আরও নির্দয় হলেন তারা দু’জন। চারটি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কা। ২৩ রান। ২ ওভারেই ওঠে মোট ৪৪ রান।
যদিও ইংলিশদের দুর্ভাগ্য। তৃতীয় ওভারেই কাইল অ্যাবটের হাতে উইকেট দিয়ে দিলেন আলেক্স হেলস। ওভারের ৩য় বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে গেলেন তিনি। এরপর জ্যসন রয়ের সঙ্গে জুটি বাধতে আসেন বেন স্টোকস। তবে এই জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। স্কোরবোর্ডে ২৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ৭১ রানে আউট হন জ্যাসন রয়। বেন স্কোকস ফিরে যান দলীয় ৮৭ রানে। মরগ্যান আউট হন দলীয় ১১১ রানে। এরপরই ৭৫ রানের জুটি গড়েন জস বাটলার এবং জো রুট। ১৮৬ রানে বাটলার আউট হন। ২১৯ রানে জো রুট, ২২৯ রানে ক্রিস জর্ডান এবং ডেভিড উইলি আউট হন। শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে ইংল্যান্ডের সামনে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৯ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা এবং জেপি ডুমিনির তিনটি ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি, ডেভিড মিলারের ১২ বলে ২৮ রানের টর্নেডো ইনিংসই ইংলিশদের সামনে এতবড় ইনিংস গড়তে সাহায্য করেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন কুইন্টন ডি কক। ৫২ রান করে আউট হন তিনি। হাশিম আমলা করেন ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি। তিনি আউট হন ৫৮ রান করে। ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন জেপি ডুমিনি। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন প্রোটিয়া মিডল অর্ডারন।
বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে আরও কয়েকদিন আগে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে আজই প্রথম মাঠে নামলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হেরে যেন তেতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। ফলে মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের ওপরই যেন সেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা।
টস জিতে প্রথমে বোলিং নেয়ার সিদ্ধান্ত যে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানের কোনমতেই সঠিক হয়নি, সেটা প্রমাণ করে দিলেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার হাশিম আমলা এবং কুইন্টন ডি কক। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের ওপর রীতিমত টর্নেডো বইয়ে দেন তারা দু’জন। ৩ ওভারেই ৫০ রান তুলে ফেলেন তারা। এরপর ৫ ওভারেই তোলেন ৭২ রান। শেষ পর্যন্ত ৭.১ ওভারে ৯৬ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা দু’জন।
৮ ওভারেই ১০০ রান করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তখনই মনে হয়ছিল, কোথায় গিয়ে যে থামে প্রোটিয়ারা। তবে মাঝে ডি ভিলিয়ার্স ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েও আউট হয়ে গেলে, কিংবা ১৭ বলে ১৭ রান করে ডু প্লেসিস আউট হলে রানের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে যায়। তবে শেষ মুহূর্তে ডুমিনি আর ডেভিড মিলার আবার ঝড় তোলেন। যে কারণে শেষ পর্যন্ত ২২৯ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে প্রোটিয়ারা।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে মঈন আলি নেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন ডেভিড উইলি এবং আদিল রশিদ।