আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারের নির্ধারিত স্থানে তা স্থাপন না করায় তিন মালিককে পুলিশে সোপর্দ করেছেন হাইকোর্ট।
ওই তিন মালিক হলেন, পূবালী ট্যানারিজের মাহবুবুর রহমান, রুমি লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ পাঠান ও মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্যানারিজের মো. আকবর হোসেন।
রোববার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ কোর্ট তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে তাদেরকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এর আগে গত ২৩ মার্চ তাদেরকে হাইকোর্টে স্বশরীরে হাজির হয়ে ট্যানারি স্থানান্তর না করার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য আজ ১০ এপ্রিল ঠিক করে দেন আদালত। মনজিল মোরসেদ ওইসব ট্যানারি মালিকের নাম জানাতে না পারলেও ট্যানারির নাম জানিয়েছিলেন।
ট্যানারি ১০টি হলো:
১. রানা লেদার
২. জুলেট ইন্টারপ্রাইজ
৩. পূর্বালি ট্যানারি
৪.রুমি লেদার
৫. সালাম ট্যানারি
৬. করিম লেদার
৭. মহিন ট্যানারি
৮. লক্ষীপুর ট্যানারি
৯. এশিয়া ট্যানারি
১০. প্যারামাউন্ট ট্যানারি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদন করেন সংগঠনের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী। ওই আবেদন শুনানি করে ২০১৫ সালে রুল জারি করেন এবং ট্যানারি স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা পালন না করায় এর আগে ১০ ট্যানারি মালিকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের ওই রুল ও নির্দেশনা পালন না করায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। ২৩ মার্চ শুননি শেষে আদালত তাদেরকে তলব করে ব্যাখ্যা চান আদালত।
মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, শুনানিতে আদালতে বিলেছি যে, ২০০১ সালে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য ঘোষিত রায়ে বলা হলেও মালিকরা টালবাহানা করে ট্যানারি স্ব-স্ব স্থানে রেখে ঢাকা শহরের ও বুড়িগঙ্গার নদীর পরিবেশ আরও বেশি দূষণ করে জনস্বাস্থ্যর মারাত্মক ক্ষতি করছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত উপরে উল্লেখিত ট্যানারি মালিকদের তলব করেন হাইকোর্ট।