ইশতিয়াক আহমেদ:জেলা জজ সম পর্যায়ের অর্থাৎ বিচারিক (নিন্ম) আদালতের বিচারকদের অষ্টম বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন-ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত (প্রজ্ঞাপন) গেজেট প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৬ নামে প্রকাশিত গেজেটে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে এ গেজেট কার্যকর দেখানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহার্ঘভাতা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস সদস্যদের বেতন, ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি নির্ধারণ’ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রকাশিত গেজেটে বিচারকদের বেতন স্কেল ছয়টি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে চাকরির মেয়াদ সর্বনিন্ম ১৪ বছর হওয়া বিচারকদের বেতন স্কেল করা হয়েছে ৭০৯২৫-৭৬৩৫০ টাকা, চাকরির মেয়াদ সর্বনিন্ম ১২ বছর হওয়া বিচারকদের বেতন স্কেল করা হয়েছে ৬২৩৫০-৭৫৮৮০ টাকা, চাকরির মেয়াদ সর্বনিন্ম ১০ বছর হওয়া বিচারকদের বেতন স্কেল করা হয়েছে ৫৪৩৭০-৭৪৬৬০ টাকা, চাকরির মেয়াদ সর্বনিন্ম ৫ বছর হওয়া বিচারকদের বেতন স্কেল করা হয়েছে ৪৪৪৫০-৭২২১০ টাকা, চাকরির মেয়াদ সর্বনিন্ম ৪ বছর হওয়া বিচারকদের বেতন স্কেল করা হয়েছে ৩৪৫৪০-৬৫২১০ টাকা এবং সর্বনিন্ম বেতন স্কেল হবে ৩০৯৩৫-৬৪৪৩০ টাকা।
এছাড়া জেলা জজ হিসেবে ৫ বছর দায়িত্ব পালনকারী বিচারক বা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বা সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা হিসেবে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) টাকা বেতন পাবেন।
সর্বশেষ ২০০৯ সালে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বেড়েছিল। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে চেয়ারম্যান করে জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য নতুন পে কমিশন গঠন করে সরকার।
এ কমিশন গত বছরের মাঝামাঝি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে গত ১২ জানুয়ারি একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৯ সদস্যের এ কমিটির প্রধান করা হয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে।