শবনম শাহজাহান: শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তদারকির জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতাশাব্যঞ্জক ফলাফলে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির ব্যবস্থা থাকলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা জানতে পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না।
মঙ্গলবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মিলনায়তনে সারাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন ২০১৫ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর জাতীয় বিস্তরণ কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। সারাদেশের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এ কর্মশালায় অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন কোন শিক্ষক কোচিংয়ে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নোটবই পড়তে উদ্বুদ্ধ করা, অনিয়মিত উপস্থিতি প্রভৃতি অভিযোগও কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়। নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকির মাধ্যমে এসব শিক্ষক নামধারী দুর্জন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে উদ্যোগী হওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গত বছর দেশব্যাপী পরিচালিত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানানো হয়, মূল্যায়নকৃত ৫২৭টি স্কুল ও মাদরাসার মধ্যে মানের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো বলে বিবেচিত হয়েছে রাজশাহীর বোয়ালিয়ার খাদেমুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সবচেয়ে দুর্বল বলে বিবেচিত হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ষষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে তাৎক্ষণিক শ্রেণি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, টিকিউআই প্রকল্প পরিচালক জহির উদ্দিন বাবর, সেকায়েপের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহামুদুল হক এবং মাউশির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সেলিম মিয়াও বক্তৃতা করেন।