নিউজ ডেস্ক: নিজের বক্তব্য দেওয়ার পর টিউলিপ পর্যাপ্ত সময় অধিবেশনে অবস্থান না করায় তার উপর ক্ষোভ দেখিয়েছেন হাউজ অব কমন্সের ডেপুটি স্পিকার। এক এমপির ভাষায়, লেইং ‘পেয়ে বসেছিলেন’ টিউলিপকে। হাউজ অব কমন্সের ‘রীতি’ ও ‘বিধি’ অনুযায়ী, কেউ বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে আরও তিনজনের বক্তব্য শুনতে হয়। রক্ষণশীল দল থেকে নির্বাচিত এলেনর লেবার পার্টির এমপি টিউলিপকে বকা দেওয়ার সময় ‘নারী জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ’ করার জন্য দায়ী করেছেন বলে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো মা হতে যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী টিউলিপ বিশ্রামের জন্য বিরতি নেওয়ার আগে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অধিবেশনে ছিলেন। ৪৫ মিনিট পর ফিরে এলে তাকে ডেকে পাঠিয়ে আরেকজন ‘হতবাক’ এমপির সামনে তার ওপর চড়াও হন লেইং। বৃহস্পতিবার ‘ইউনিভার্সাল ক্রেডিট’ নিয়ে বিতর্কে অংশ নিতে স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টায় অধিবেশনে যোগ দেন হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনের নতুন এমপি টিউলিপ। হাউজের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেলা পৌনে ৩টায় অধিবেশন ছাড়ার আগে আড়াইটায় বক্তব্য দেন তিনি।
মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজে নারী হয়েও ডেপুটি স্পিকার পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপকে বলেন, আমাকে ‘গর্ভবতী হওয়ার অজুহাত’ দেখাবেন না; যদিও নিজের সাত মাসের গর্ভাবস্থার কথা বলেননি টিউলিপ। এক প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে ডেইলি মেইল বলেছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী টিউলিপ তার আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। টিউলিপ সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার মনে হয়, এ ঘটনা প্রমাণ করল যে হাউজের বিধি-বিধান যে কারও জন্য পুরনো হয়ে গেছে। গর্ভবতী নারী বা অন্য মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বাদই দিলাম। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই কারও ছুটি নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। সমাজের অন্য জায়গায় এটা নিছকই সাধারণ বিবেচনার বিষয়।
টিউলিপ বেরিয়ে আসার পর ৫৭ বছর বয়সী এসেক্স আসনে ক্ষমতাসীন টোরি দলের সদস্য ডেপুটি স্পিকার লেইং উপস্থিত এমপিদের বলেন, হাউজের রীতি ও বিধান অনুযায়ী, কেউ বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে পরের জনের এবং সাধারণত আরও দুজনের বক্তব্য শুনতে হবে। প্রায় ৪৫ মিনিট পর টিউলিপ ফিরলে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ডেকে পাঠান স্পিকারের চেয়ারে থাকা লেইং। ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করার বিষয়টি টিউলিপ বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।