নিউজ ডেস্ক: শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি পূরণে তিনদফায় আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। গত ২৮ ডিসেম্বর সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসিক ব্যাংকের মূলধন যোগান দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরিমাণের বিষয়ে কোনো নিদিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
অর্থ-মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের মে মাসে ১ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা মূলধন সহায়তা চেয়ে আবেদন করে বেসিক ব্যাংক। ওই বছরের ডিসেম্বরেই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণে ৭৯০ কোটি টাকা দেয় সরকার। দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০০ কোটি টাকা দেয় অর্থ বিভাগ।
ব্যাপক ঋণ অনিয়মের ফলে মূলধন ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে বেসিক ব্যাংকের। আগে দু’দফায় ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা মূলধন যোগান দেওয়ার পরেও ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তৃতীয় বারের মত আরও ২ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা চেয়ে আবেদন করে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। ঘুরে দাঁড়াতেই করের টাকা থেকে ব্যাংকটিকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন যোগান দিল সরকার। অর্থ-মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ বুধবারই এই অর্থ ছাড় করেছে।
২০১২-১৩ সালে বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর, গুলশান ও দিলকুশা শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নেয় কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২৫ মে তৎকালীন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ ও ২৯ মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন তখনকার চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। এরপর আলাউদ্দিন এ মজিদের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৭ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর অপসারণ করা হয় ব্যাংকের তিন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে। এরপরও গত সেপ্টেম্বর শেষে বেসিক ব্যাংক এর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।