ইশতিয়াক আহমেদ: চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ মিছিল-সমাবেশ করেছে। পরে দুপুরের দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে রক্ত ঢেলে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে শিবিরের উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান তারা। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের ওপর শিবিরের হামলা হলে এক পর্যায়ে সেটি দুইপক্ষের সংর্ঘষে রূপ নেয়। ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ চারটি ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। আর পরদিন ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় কলেজের শীতকালীন ছুটি।
ছুটির পর প্রথম দিনে নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনসহ আট দফা বাস্তবায়নের দাবি জানায়। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন।
ছাত্রলীগের আটটি দাবির মধ্যে রয়েছে- কলেজ ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, মূল ফটক ছাড়া অন্য ফটকগুলো বন্ধ রাখা, চট্টগ্রাম ও মুহসীন কলেজের সব ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস বন্ধ রাখা, ক্যাম্পাসের ভেতর আবাসিক স্থাপনা না রাখা, ‘শিবিরের তল্পীবাহক’ হোস্টেল সুপার ও মসজিদের ইমামকে অপসারণ করা, অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন কর্মচারীদের অপসারণ এবং ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে দোকান অপসারণ।
এরপর বেলা ১টায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনের করিডরে রক্ত ঢেলে প্রতিবাদ জানায় নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের কর্মসূচি চলাকালে কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বেলা আড়াইটার দিকে নেতাকর্মীরা মিছিল করে ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলে বিকালে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে বন্ধের পর প্রথম দিনে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিল হাতেগোনা, কোনো বিভাগে ক্লাশ হতে দেখা যায়নি। তবে কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা ও ফরম পূরণ করেছেন ছাত্রছাত্রীরা।
কলেজের পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে বিকালে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার। বৈঠকে কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার কলেজের সব পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।